×

ঘানার আন্তর্জাতিক রোগীর সফল সুস্থতা: মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরে ‘কী-হোল’ স্পাইন সার্জারিতে দ্রুত আরোগ্য।

ঘানার আন্তর্জাতিক রোগীর সফল সুস্থতা: মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরে ‘কী-হোল’ স্পাইন সার্জারিতে দ্রুত আরোগ্য।

Share this:


কলকাতা, ৬ মার্চ ২০২৬: মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরে সফলভাবে ‘মিনিমালি ইনভেসিভ কী-হোল স্পাইন সার্জারি’-র মাধ্যমে ঘানার ৬০ বছর বয়সী আন্তর্জাতিক রোগী ইয়াও বোয়াকেকে চিকিৎসা করা হয়েছে। এই জটিল অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করেন ডা. অনিন্দ্য বসু, সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও ক্লিনিক্যাল লিড – স্পাইন সার্জারি। পুরো চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় রোগীর কিডনি সংক্রান্ত অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখে নেফ্রোলজি টিম, যার নেতৃত্বে ছিলেন ডা. উপাল সেনগুপ্ত, ডিরেক্টর – টিম নেফ্রোলজি ও কনসালট্যান্ট – নেফ্রোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট, এবং ডা. অভিনন্দন বন্দ্যোপাধ্যায়, ক্লিনিক্যাল লিড – নেফ্রোলজি ও কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট।

কয়েক বছর আগে মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরেই ওই রোগীর কিডনি প্রতিস্থাপন হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি তাঁর ছেলে জেমসকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য কলকাতায় আসেন। সেই সময় তিনি তীব্র কোমরের ব্যথায় ভুগছিলেন, যা দু’পায়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। পাশাপাশি তিনি ‘নিউরোজেনিক ক্লডিকেশন’ নামক সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন, যেখানে মেরুদণ্ডের স্নায়ুতে চাপ পড়ার ফলে হাঁটার সময় পায়ে ব্যথা ও অবশ ভাব দেখা দেয়।

বিস্তারিত পরীক্ষা ও এমআরআই রিপোর্টে দেখা যায়, তিনি L4–L5 স্পন্ডাইলোলিসথেসিস সমস্যায় ভুগছিলেন—যেখানে মেরুদণ্ডের একটি হাড় নিচের হাড়ের ওপর সরে যায়। এর সঙ্গে ছিল স্পাইনাল ক্যানাল স্টেনোসিস, অর্থাৎ মেরুদণ্ডের ভিতরের জায়গা সংকুচিত হয়ে স্নায়ুর ওপর চাপ সৃষ্টি করছিল, যার ফলেই এই উপসর্গগুলো দেখা দিচ্ছিল।

রোগীর বয়স ও পূর্ববর্তী কিডনি প্রতিস্থাপনের ইতিহাসের কারণে অস্ত্রোপচারটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তাই মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুরের স্পাইন সার্জারি টিম মিনিমালি ইনভেসিভ কী-হোল স্পাইন ফিউশন (TLIF) পদ্ধতি বেছে নেয়। এই আধুনিক পদ্ধতিতে রক্তক্ষয় কম হয়, অস্ত্রোপচারের পর ব্যথা কম থাকে এবং রোগী দ্রুত চলাফেরা করতে পারেন—যা বয়স্ক ও একাধিক শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ।

অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয় এবং রক্ত সঞ্চালনের প্রয়োজন পড়েনি। অপারেশনের পরদিনই রোগীকে হাঁটাচলা করানো হয় এবং ফিজিওথেরাপি শুরু করা হয়। তাঁর কিডনি পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ন্যূনতম ব্যথানাশক ওষুধ দেওয়া হয়। ২৭ জানুয়ারি থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার সময় তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে তাঁকে স্থিতিশীল অবস্থায় হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।

এই প্রসঙ্গে ডা. অনিন্দ্য বসু বলেন, “কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করা রোগী বা দীর্ঘদিনের কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অস্ত্রোপচারকে সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়। তবে আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ প্রযুক্তির সাহায্যে এখন জটিল শারীরিক ইতিহাস থাকা বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রেও নিরাপদ ও কার্যকর সার্জারি করা সম্ভব। এই রোগীর দ্রুত আরোগ্য আধুনিক স্পাইন সার্জারির কার্যকারিতা ও নিরাপত্তার একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।”

রোগীর ছেলে জেমস, যিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী, বলেন, “আমার বাবার কিডনির সমস্যার কারণে আমরা স্বাভাবিকভাবেই অপারেশন নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলাম। কিন্তু স্পাইন এবং নেফ্রোলজি টিমের সমন্বিত চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ আমাদের অনেকটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই বাবাকে স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটতে দেখে আমরা সত্যিই অভিভূত হয়েছি। অপারেশনের পরবর্তী চেক-আপও সম্পন্ন হয়েছে এবং তিনি এখন ভালোভাবেই সুস্থ হয়ে উঠছেন।”

এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও বহুমুখী বিশেষজ্ঞ দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আজ স্পাইন সার্জারি আর আগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মণিপাল হাসপাতাল মুকুন্দপুর উন্নত চিকিৎসা ও আন্তঃবিভাগীয় সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রোগীদের কাছেও আস্থা অর্জন করে চলেছে এবং জটিল রোগীদের জন্য নিরাপদ ও সফল চিকিৎসা নিশ্চিত করছে।

Post Comment

You May Have Missed