নৃত্যের দুই দশক পূর্তিতে মানবিকতার বার্তা, ইন্দ্রাণী গাঙ্গুলীর -এর বিশেষ উদ্যোগ।অ্যাসিড-আক্রান্ত, পথশিশু ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের পাশে দাঁড়িয়ে সমাজের মূলস্রোতে ফেরানোর উদ্যোগ — সম্মানিত হলেন সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল গুণী ব্যক্তিত্বরাও
নৃত্য, সংস্কৃতি এবং মানবিকতার এক অনন্য মেলবন্ধনের সাক্ষী থাকল কলকাতা। শ্রীমতি ইন্দ্রাণী গাঙ্গুলীর স্বপ্নের প্রতিষ্ঠান Sristi Dance Academy পা রাখল তার গৌরবময় ২০ বছরে। এই বিশেষ মাইলস্টোন উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত হল এক ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান, যেখানে সাংস্কৃতিক উদযাপনের পাশাপাশি সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তুলে ধরা হয়।দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নৃত্য ও সংস্কৃতির জগতে কাজ করে চলেছে Sristi Dance Academy।

তবে এই প্রতিষ্ঠানের ২০ বছর পূর্তি শুধুমাত্র একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সাফল্য উদযাপনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে রেখে এই বিশেষ দিনটিকে আরও অর্থবহ করে তুলেছেন শ্রীমতি ইন্দ্রাণী গাঙ্গুলী।সমাজের পিছিয়ে পড়া অ্যাসিড-আক্রান্ত মানুষ, পথশিশু এবং তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের জীবনের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় বিশেষ উদ্যোগ। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের জীবনযাত্রায় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দেওয়ার পাশাপাশি সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের কৃতিত্ব ও সাফল্যের মাধ্যমে বিশেষ অবদান রাখা গুণী ব্যক্তিদেরও সম্মানিত করা হয়।এই মানবিক উদ্যোগের মূল কান্ডারী হিসেবে প্রখ্যাত পরিচালক-অভিনেতা অনিন্দ্য সরকার তাঁর সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাঁর সঙ্গে এই উদ্যোগকে সফল করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পরিচালক সুব্রত শর্মা এবং মৃন্ময় সরকার। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, পরিকল্পনা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে পুরো অনুষ্ঠানটি একটি সুন্দর ও মর্যাদাপূর্ণ রূপ পায়।গত ১৭ সেপ্টেম্বর ICCR-এর সত্যজিৎ রায় অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই বিশেষ সন্ধ্যা হয়ে ওঠে এক স্মরণীয় আয়োজন। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, সম্মাননা প্রদান এবং মানবিক উদ্যোগ—সব মিলিয়ে সন্ধ্যাটি পরিণত হয় একটি সুন্দর স্বর্ণালী অধ্যায়ে।

অনুষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতার বার্তা। তাঁদের শুধুমাত্র সাহায্যের প্রয়োজন রয়েছে এমন মানুষ হিসেবে নয়, বরং সমাজের সমান গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখার যে প্রয়াস এই উদ্যোগের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছে, সেটিই অনুষ্ঠানের মূল বক্তব্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।শ্রীমতি ইন্দ্রাণী গাঙ্গুলীর এই উদ্যোগ প্রমাণ করে, শিল্প ও সংস্কৃতি শুধুমাত্র বিনোদনের মাধ্যম নয়—এর মাধ্যমে সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ, মানবিকতা এবং ইতিবাচক পরিবর্তনের বার্তাও পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।