আবার একসাথে জনপ্রিয় জুটি বিক্রম চ্যাটার্জি ও শোলাঙ্কি রায়কে বড় পর্দায় দেখতে চলেছেন দর্শক। নতুন ছবি ‘রাজকন্যা’-তে ফের এক প্রেমের গল্প নিয়ে হাজির হচ্ছেন তাঁরা। ছবিটির পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন পরিচালক জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রযোজনায় রয়েছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের সংস্থা বিক্রম চ্যাটার্জি ফিল্মস ও ড্রিমস অন সেল।‘ইচ্ছেনদী’ ধারাবাহিকের হাত ধরে বিক্রম ও শোলাঙ্কির জুটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। পরবর্তীকালে ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’ ছবিতেও একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। দুজনার জুটিতে দর্শকদের প্রশংসা পেয়েছিল এই জুটি। এবার আরও একবার প্রেমের গল্পে জুটি বাঁধছেন এই দুই অভিনেতা।ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে দিব্যর চরিত্রে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং সোমদত্তার চরিত্রে শোলাঙ্কি রায়কে কেন্দ্র করে। স্কুলজীবনে শুরু হওয়া একটি সম্পর্ক কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলে যায়, কলেজজীবনে সেই প্রেম কোন নতুন মোড় নেয় এবং কর্মজীবনে পা রাখার পর তিরিশের কোঠায় পৌঁছে সেই সম্পর্ক কতটা পরিণতি পায়—এই প্রশ্নগুলিকে ঘিরেই এগোবে ছবির কাহিনি। তিনটি ভিন্ন সময়কালকে পর্দায় তুলে ধরার মাধ্যমে প্রেম, সম্পর্ক ও জীবনের পরিবর্তনকে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে চাইছেন নির্মাতারা।ছবিটি নিয়ে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই গল্পটি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা ছিল তাঁর।

তবে তিনি চেয়েছিলেন, শোলাঙ্কিকে সঙ্গে নিয়েই ছবিটি তৈরি করতে। শোলাঙ্কির অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার কারণে ছবিটি বাস্তবায়িত হতে সময় লেগেছে প্রায় সাড়ে তিন বছর। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। প্রেমের জুটি হিসেবে দর্শকের কাছ থেকে বরাবরই ভালোবাসা পেয়েছেন তাঁরা। সেই ভালোবাসাকে সঙ্গী করেই আবারও প্রেমের গল্প নিয়ে ফিরছেন বিক্রম।ছবিতে বিক্রমকে দুটি ভিন্ন বয়সের পর্যায়ে দেখা যাবে। চরিত্রের বয়স ও সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর অভিনয় এবং লুকেও থাকবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। নিজের ভালোবাসাকে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, মনের মধ্যে চলতে থাকা দ্বন্দ্ব এবং সম্পর্কের টানাপোড়েন—সব মিলিয়ে চরিত্রটি দর্শকের সামনে একাধিক দিক উন্মোচন করবে।অন্যদিকে, ছবিটি নিয়ে শোলাঙ্কি রায়ের বক্তব্য, নব্বইয়ের দশকের মিষ্টি প্রেমের ছবি দেখতে দেখতেই তাঁদের বড় হয়ে ওঠা। তাই এমন একটি গল্পের প্রস্তাব তাঁর ভালো লেগেছিল। পাশাপাশি ছবির পরিচালক, প্রযোজক ও সহ-অভিনেতার সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কাজের অভিজ্ঞতাকে আরও আনন্দদায়ক করে তুলবে বলেই তিনি আশাবাদী।নব্বইয়ের দশকের কলকাতা এবং সময়ের সঙ্গে শহর ও মানুষের জীবনে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনও ছবির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। কেবল প্রেমের গল্প নয়, সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কের রং কীভাবে বদলে যায়, সেই অনুভূতিকেও পর্দায় তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও শোলাঙ্কি রায়ের পরিচিত রসায়ন, নস্টালজিয়ায় মোড়া প্রেমের গল্প এবং সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের বিবর্তন—এই তিনের মেলবন্ধনে ‘রাজকন্যা’ বাংলা ছবির দর্শকদের জন্য এক নতুন আবেগঘন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে বলেই আশা করছেন নির্মাতারা। আগামীবছর বড়োপর্দায় মুক্তি পাবে এই ছবি।
