কলকাতা, ৬ অক্টোবর ২০২৬: প্রয়োজনীয় খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক বিধি মেনে চলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেড তাদের কারখানার লাইসেন্স পুনর্বহালের জন্য ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (FSSAI)-র কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়েছে। আজ কলকাতায় আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের Sole Proprietor ও Director শ্রী গৌতম মল্লিক এবং Director শ্রী ঋষভ মল্লিক লাইসেন্স পুনর্বহাল এবং বি. এল. সাহা রোডের কারখানায় নেওয়া সংশোধনমূলক পদক্ষেপগুলি নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।এছাড়াও সংস্থার পক্ষ থেকে কালীঘাটে একটি নতুন আউটলেট খোলার ঘোষণা করা হয়।বি. এল. সাহা রোডের কারখানার লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার পর সংস্থাটি কর্তৃপক্ষের উত্থাপিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে একাধিক সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলি হল:কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ও টাইফয়েড টিকাকরণ: খাদ্য উৎপাদন ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় টাইফয়েড টিকাকরণ সম্পন্ন করা হয়েছে।খাদ্য প্রস্তুতির পদ্ধতি: পরিদর্শনের সময় নির্ধারিত উৎপাদন এলাকার বাইরে একটি বস্তার ওপর আলু ছাড়ানোর কাজ চলছিল এবং পরে আলুগুলি পরিষ্কার জলে রাখা ও ধোয়া হয়েছিল। সংস্থার পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয় যে সেই সময় কোনও সবজি রান্না বা প্রস্তুত করা হচ্ছিল না, যদিও পর্যবেক্ষণে তা উল্লেখ করা হয়েছিল। এরপর খাদ্য প্রস্তুতি ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।বর্জ্য ব্যবস্থাপনা: খোলা বর্জ্যের পাত্রের পরিবর্তে নির্দিষ্ট নীল রঙের শুকনো বর্জ্য এবং সবুজ রঙের ভেজা বর্জ্যের পাত্র ব্যবহার শুরু করা হয়েছে, যাতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ও পরিচ্ছন্নতা আরও নিশ্চিত করা যায়।ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও সুরক্ষা সামগ্রী: খাদ্য প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের জন্য অ্যাপ্রন, গ্লাভস এবং হেডগিয়ার ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।তারিখ উল্লেখ ও খাদ্যের ট্রেসেবিলিটি: প্রস্তুত ও আংশিক প্রস্তুত খাদ্যসামগ্রীর ক্ষেত্রে তারিখের ট্যাগ চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে খাদ্য সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে তার উৎস ও গতিপথ শনাক্ত করার ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।পেস্ট কন্ট্রোল ব্যবস্থা: নিয়মিত পেস্ট কন্ট্রোলের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং এর জন্য যথাযথ নথিপত্র, রিপোর্ট ও নির্দিষ্ট সময়সূচি বজায় রাখা হচ্ছে।খাদ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা: উপকরণ ও খাদ্যসামগ্রী নিরাপদে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা দেওয়া ক্রেট এবং ফুড-গ্রেড কনটেনার ব্যবহার করা হচ্ছে।পরিকাঠামোগত উন্নয়ন: কারখানার পরিকাঠামোর সংস্কার ও উন্নয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে টাইলসের কাজ এবং চিমনি ও ডাক্টিং সিস্টেমের প্রয়োজনীয় মেরামত ও উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যাতে পরিচ্ছন্নতা ও উৎপাদন ব্যবস্থা আরও উন্নত হয়।“বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিকের কাছে খাদ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমান সবসময়ই আমাদের কাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে উত্থাপিত পর্যবেক্ষণের পর আমরা প্রয়োজনীয় সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছি এবং আমাদের পরিকাঠামো ও কার্যপ্রণালী আরও শক্তিশালী করেছি। আমাদের FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহাল এবং কারখানায় পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমোদন পেয়ে আমরা আনন্দিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমাদের ব্র্যান্ডের ওপর যে আস্থা গ্রাহকরা রেখেছেন, আমরা তার মূল্য দিই এবং ভবিষ্যতেও সর্বোচ্চ মানের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা ও খাদ্য সুরক্ষা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ,” বলেন বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের Sole Proprietor ও Director শ্রী গৌতম মল্লিক।সংস্থার পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করা হয় যে সাম্প্রতিক নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপটি শুধুমাত্র বি. এল. সাহা রোডের কারখানা চত্বরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল এবং টালিগঞ্জের আউটলেট বা সংস্থার অন্যান্য আউটলেটের ক্ষেত্রে তা প্রযোজ্য নয়। সংস্থার প্রতিটি আউটলেটের নিজস্ব FSSAI অনুমোদন রয়েছে এবং প্রযোজ্য খাদ্য সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক বিধি মেনে সেগুলি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। ব্যবস্থাপনার পক্ষ থেকে পুনরায় জানানো হয় যে বি. এল. সাহা রোডের কারখানা সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক পদক্ষেপের আওতায় টালিগঞ্জের আউটলেট স্থগিত করা হয়নি।“আমাদের FSSAI লাইসেন্স পুনর্বহালের অনুমোদন পাওয়া সংস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। আমরা আমাদের প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করা, উৎপাদন ব্যবস্থায় পরিচ্ছন্নতা উন্নত করা এবং পুরো কারখানাজুড়ে আরও বেশি জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করেছি। গ্রাহক এবং বৃহত্তর সমাজের প্রতি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখাতেও আমরা বিশ্বাসী। আগামী দিনে আমাদের লক্ষ্য হবে আমাদের প্রতিটি কার্যক্রমে খাদ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমানের প্রয়োজনীয় মান ধারাবাহিকভাবে বজায় রাখা,” বলেন বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের Director শ্রী ঋষভ মল্লিক।সংস্থাটি কলকাতায় নিজেদের উপস্থিতি আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কালীঘাটে একটি নতুন আউটলেট খোলার কথাও ঘোষণা করেছে। নতুন এই আউটলেটের মাধ্যমে শহরে সংস্থার উপস্থিতি আরও বিস্তৃত হবে এবং এখানেও বাঙালির ঐতিহ্যবাহী মিষ্টির পাশাপাশি সংস্থার অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী পাওয়া যাবে।১৪০ বছরেরও বেশি সময়ের ঐতিহ্য নিয়ে বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক কলকাতার খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শহরে নিজেদের উপস্থিতি সম্প্রসারণের সময়ও গ্রাহকের আস্থা, খাদ্য সুরক্ষা, পরিচ্ছন্নতা এবং গুণমানই তাদের কার্যক্রমের মূল ভিত্তি হয়ে থাকবে।বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেড সম্পর্কেবলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিকের ঐতিহ্যের শিকড় ভবানীপুরে। বর্তমান মালিকের ঠাকুরদা গণেশচন্দ্র মল্লিক এই ব্যবসার প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে তাঁর ভাই বলরাম মল্লিক এই ব্যবসায় যোগ দেন এবং এরপর রাধারমন মল্লিকও পারিবারিক ব্যবসায় যুক্ত হন। অংশীদারিত্বে পরিবর্তনের পর রাধারমন মল্লিক একক মালিক হিসেবে ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৭ সালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর তাঁর বড় ছেলে প্রদীপ মল্লিক ব্যবসার দায়িত্ব নেন। ১৯৮৫ সালে মাত্র ১৫ বছর বয়সে পড়াশোনার পাশাপাশি গৌতম মল্লিক ব্যবসায় যোগ দেন এবং স্নাতক হওয়ার পর ১৯৯৩ সালে ব্যবসার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে তাঁর ভাইপো পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসায় যোগ দেন। পরবর্তীতে গৌতম মল্লিক একটি স্বাধীন উদ্যোগ শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন এবং ২০০৭ সালে নিউ আলিপুরে একটি দোকান খোলেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্যবসাটি কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং বর্তমানে সংস্থার আটটি আউটলেট রয়েছে। কলকাতার সমৃদ্ধ খাদ্যঐতিহ্যের সঙ্গে দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক আজও অব্যাহত রয়েছে।বলরাম মল্লিক ও রাধারমন মল্লিক সুইট প্রাইভেট লিমিটেডের আউটলেট:নিউ আলিপুর, সন্তোষপুর, বেহালা ম্যান্টন, ঠাকুরপুকুর, টালিগঞ্জ, যাদবপুর, মুকুন্দপুর, চিনার পার্ক।
