৬ ই নভেম্বর মুক্তি পেল জয় ভট্টাচার্য পরিচালিত বাংলা ছবি ‘চরৈবেতি’শিল্পজগতে তিনি একজন সফল শিল্পপতি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু বিনোদন ও সঙ্গীতের জগতে সুধীর দত্ত এক সুপরিচিত নাম।

পরিচালক, সঙ্গীত পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই নিজের সৃজনশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন তিনি। এবার তাঁর প্রতিভার আরও এক নতুন দিক উন্মোচিত হতে চলেছে। সঙ্গীত ও পরিচালনার পাশাপাশি এবার অভিনেতা হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন সুধীর দত্ত। আসন্ন বাংলা ছবি ‘চরৈবেতি’-র মাধ্যমে দর্শক তাঁকে এক নতুন ভূমিকায় দেখতে পাবেন।জয় ভট্টাচার্য ও তাঁর টিমের পরিচালনায় নিবেদনে নির্মিত এই বাংলা পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবিটি আগামী ৬ নভেম্বর, ২০২৬ তারিখে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। ছবিটির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বও সামলেছেন সুধীর দত্ত নিজেই।জয় ভট্টাচার্যের কাহিনি ও ভাবনায় নির্মিত ‘চরৈবেতি’ এমন এক সংবেদনশীল সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছে, যা দর্শকদের ভাবতে বাধ্য করবে। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র সংযুক্তা। নিজের জীবন এবং প্রেমিক বিক্রান্তের প্রাণ বাঁচাতে পাঁচজন ধর্ষকের সামনে নিজেকে সমর্পণ করতে বাধ্য হয় সে।

ঘটনাটি এক অপরাধীর স্ত্রী পুলিশকে জানালে জয়ন্ত বিশ্বাস সংযুক্তা ও বিক্রান্তকে উদ্ধার করেন। কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে দেখা যায়, সংযুক্তার পক্ষে কোনও উপযুক্ত পারিপার্শ্বিক প্রমাণ নেই।সহানুভূতি পাওয়ার পরিবর্তে সমাজের কাছে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয় সংযুক্তাকে। নিজের এবং প্রিয়জনের জীবন বাঁচাতে যে কঠিন সিদ্ধান্ত সে নিয়েছিল, সেই সিদ্ধান্তকেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায় সমাজ। এমনকি বাবার এক বন্ধুর কাছ থেকেও তাকে অনৈতিক প্রস্তাবের সম্মুখীন হতে হয়। অন্যদিকে, তার প্রেমিকও মামলা থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়। সংযুক্তার নির্দোষিতা প্রমাণ করতে তার আইনজীবী ও পরিবারের সদস্যরা আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত আদালতে তাঁরা ব্যর্থ হন। আদালতের রায়ে ভেঙে পড়েন সকলে, এমনকি মুখ্যমন্ত্রীও।কিন্তু এখানেই গল্পের পরিসমাপ্তি নয়। অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। যে মহিলা সাহস করে পুলিশকে ঘটনার কথা জানিয়েছিলেন, তাঁকেই নৃশংসভাবে গণধর্ষণ করে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করে দুষ্কৃতীরা।একের পর এক নারকীয় ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন। অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেন তিনি।কিন্তু শেষ পর্যন্ত কি সংযুক্তা এবং তার মতো নির্যাতিত নারীরা ন্যায়বিচার পাবেন? পুলিশ কি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে অসহায় নারীদের চোখের জল মুছতে পারবে? এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজবে ‘চরৈবেতি’।ছবিতে অভিনয় করেছেন জয় সেনগুপ্ত, বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী, অনিন্দ্য বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্চিষ্মান সিং, মৌসুমী সান্যাল দাশগুপ্ত, সংযুক্তা রায়, পায়েল মুখোপাধ্যায়, পূজা গাঙ্গুলি, মৌ বৈদ্য, জয় ভট্টাচার্য এবং সুধীর দত্ত-সহ অন্যান্য শিল্পীরা।সামাজিক বাস্তবতা, নারীর নিরাপত্তা, বিচারব্যবস্থা এবং মানবিক মূল্যবোধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে কেন্দ্র করে এই আত্মপ্রকাশও নিঃসন্দেহে ছবিটির অন্যতম আকর্ষণ।
