কৃষ্ণনগরে ‘কথাকাহন নিবেদিত জেলা সৃজন পর্ব ১৪৩৩’ — সাহিত্য ও সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য মিলনমেলা।
সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার এক বর্ণাঢ্য মিলনমেলার সাক্ষী থাকল কৃষ্ণনগর পৌরসভার দ্বিজেন্দ্র সভাকক্ষ। শনিবার ‘কথাকাহন’ প্রকাশনীর উদ্যোগে সাফল্যের সঙ্গে অনুষ্ঠিত হলো ‘কথাকাহন নিবেদিত জেলা সৃজন পর্ব ১৪৩৩’।

জেলার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, শিল্পী, আবৃত্তিকার, সংস্কৃতিপ্রেমী এবং নবীন লেখকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক অনন্য সাহিত্য-উৎসবে।অনুষ্ঠানের সূচনা হয় প্রদীপ প্রজ্বলন, অতিথি বরণ এবং শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক শ্রী সদ্যোজাত মহাশয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রী শুভেন্দু সাহা, শ্রী অঙ্কুর মজুমদার এবং বিশিষ্ট ইতিহাস গবেষক ও সাহিত্যিক ড. আকবর আলি শাহ মহাশয়। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এএসআই জয়ন্ত কবিরাজ, বিশিষ্ট কবি শ্রী বান্টি পান্ডে, বিশিষ্ট সঞ্চালিকা ও সাহিত্যিক শ্রীমতী ইন্দ্রাণী চ্যাটার্জী, বিশিষ্ট কবি শ্রীমতী সান্ত্বনা রায় সাহা-সহ সাহিত্য ও সংস্কৃতি জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বঙ্গ রত্ন সম্মান’ এবং ‘সাহিত্য রত্ন সম্মান’ প্রদান।‘বঙ্গ রত্ন সম্মান’-এ সম্মানিত হন শ্রীমতী পূর্ণিমা তালুকদার (মণ্ডল), শ্রী শিবাজী শংকর ধর, শ্রীমতী শ্বেতা ভকত, শ্রী কাজল ভূঞ্যা, শ্রী কমল কৃষ্ণ বালা, শ্রী সুব্রত মুন্সী, ড. অমিতাভ ঘোষ, শ্রী অঞ্জন কুমার মুখার্জি, ড. মোঃ আকসার আলি, শ্রী আশীষ চক্রবর্তী, শ্রী বিশ্বনাথ রায় এবং শ্রীমতী সান্ত্বনা রায় সাহা।অন্যদিকে ‘সাহিত্য রত্ন সম্মান’ প্রদান করা হয় শ্রী অশোক কুমার মহন্ত এবং শ্রী সৌম্যনারায়ণ আচার্য মহাশয়কে।অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রদানের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয় কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য পরিবেশন, সঙ্গীত এবং একাধিক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। শিল্পীদের প্রাণবন্ত পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে এবং অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও স্মরণীয় করে তোলে।দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ ছিল নয়টি একক গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক প্রকাশ।

নবীন ও প্রতিষ্ঠিত সাহিত্যিকদের এই গ্রন্থপ্রকাশ বাংলা সাহিত্যচর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মত প্রকাশ করেন উপস্থিত বিশিষ্ট অতিথিরা।সাংস্কৃতিক পর্বের সঞ্চালনার দায়িত্ব দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন বিশিষ্ট সঞ্চালিকা ও সাহিত্যিক শ্রীমতী ইন্দ্রাণী চ্যাটার্জী। সমগ্র অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা, পরিচালনা ও সফল বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিলেন ‘কথাকাহন’ প্রকাশনীর কর্ণধার শ্রী অপূর্ব হালদার।অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শ্রী অপূর্ব হালদার বলেন, “সাহিত্য কেবল লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি মানুষের মনন, চিন্তা ও সমাজকে আলোকিত করার এক শক্তিশালী মাধ্যম। ‘কথাকাহন’-এর লক্ষ্য নতুন ও সম্ভাবনাময় লেখকদের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করা এবং তাঁদের সৃষ্টিকে বৃহত্তর পাঠকমহলের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করার এই যাত্রায় ‘কথাকাহন’ ভবিষ্যতেও একই নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।”উপস্থিত অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে ‘কথাকাহন’-এর এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তাঁদের মতে, সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরনের অনুষ্ঠান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মকে সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের প্রতি আরও উৎসাহিত করবে।সাহিত্য, সংস্কৃতি, সম্মাননা, গ্রন্থপ্রকাশ এবং শিল্প-সৃজনের এক অপূর্ব সমন্বয়ে ‘কথাকাহন নিবেদিত জেলা সৃজন পর্ব ১৪৩৩’ কৃষ্ণনগরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল। অনুষ্ঠান শেষে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে এই উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অতিথিবৃন্দ।