জিন্দেগি জিন্দাবাদ’-এ ক্যানসার যোদ্ধাদের নিয়ে মণিপাল হাসপাতালের স্পোর্টস সামিট~ খেলায়, আনন্দে ও আত্মবিশ্বাসে জীবনের জয়…
‘~কলকাতা, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ক্যানসার জীবনের গল্পে এক কঠিন অধ্যায় হয়ে আসতে পারে, কিন্তু জীবনের প্রতি ভালোবাসা, আশা ও সাহসকে থামিয়ে দিতে পারে না। এই লড়াইয়ের প্রতিটি মুহূর্তে চিকিৎসার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মানসিক শক্তি এবং আত্মবিশ্বাস। এই ভাবনাকেই সামনে রেখে মণিপাল হাসপাতাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার আয়োজন করল ‘ক্যানসার ওয়ারিয়র স্পোর্টস সামিট ~ জিন্দেগি জিন্দাবাদ’। ক্যানসার যোদ্ধাদের একত্রিত করে এই উদ্যোগ হয়ে উঠেছিল সাহস, বন্ধুত্ব এবং জীবনের অদম্য স্পৃহার এক প্রাণবন্ত উদযাপন।সামিটের মূল উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ক্যানসার যোদ্ধারা চিকিৎসার ক্লিনিক্যাল দিক থেকে কিছুটা দূরে এসে অংশগ্রহণ, পারস্পরিক যোগাযোগ এবং একসঙ্গে সময় কাটানোর আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। ক্যারম, দাবা, রিং টস, ব্রেন টিজার, জাম্বলড ওয়ার্ডস, অন্তাক্ষরী, মিউজিক অ্যান্ড মস্তি-সহ নানা মজার খেলা ও কার্যকলাপের মাধ্যমে ক্যানসারের চিকিৎসার সময়ও শারীরিকভাবে সক্রিয়, মানসিকভাবে সচেতন এবং সামাজিকভাবে যুক্ত থাকার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এটি শুধুমাত্র একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠান ছিল না; বরং মনে করিয়ে দিয়েছে যে ক্যানসারের চিকিৎসা চলাকালীন এবং চিকিৎসার পরেও জীবন উদ্দেশ্য, হাসি, আশা এবং অর্থবহ অভিজ্ঞতায় ভরে উঠতে পারে।অনুষ্ঠানে মণিপাল হাসপাতাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার-এর বিশিষ্ট চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর, মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার, ব্রডওয়ে এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টার, কলকাতা; ডা. নেহা চৌধুরী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড এইচওডি, ব্রেস্ট সার্জারি; ডা. দেবাঞ্জলি দত্ত, অ্যাসোসিয়েট কনসালট্যান্ট, রেডিয়েশন অনকোলজি; ডা. পূজা আগরওয়াল, কনসালট্যান্ট, ব্রেস্ট সার্জারি; ডা. রাজীব দে, ক্লিনিক্যাল লিড অ্যান্ড সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অনকোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট; ডা. অরুণাভ রায়, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড হেড, গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজি; ডা. হর্ষ ধর, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড এইচওডি, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি এবং ডা. কিনশুক চট্টোপাধ্যায়, কনসালট্যান্ট, হেড অ্যান্ড নেক সার্জারি। চিকিৎসকেরা সামিটে অংশ নেন এবং ক্যানসার যোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা এমন একটি সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেন, যেখানে শুধু রোগ নয়, রোগীর শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিক সুস্থতার দিকগুলিও সমান গুরুত্ব পায়।অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেহতাব হোসেন, প্রাক্তন ভারতীয়; অঞ্জলি সারাওগি, বিশিষ্ট ভারতীয় আল্ট্রাম্যারাথন রানার, যিনি তাঁর অসাধারণ সহনশক্তি, দৃঢ়তা এবং অনুপ্রেরণামূলক ক্রীড়াজীবনের জন্য পরিচিত; এবং অনুপ কুমার দাস, ভারতীয় ক্রিকেটার, যিনি ক্রীড়াক্ষেত্রে তাঁর অবদানের জন্য পরিচিত। তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের উৎসাহ ও উদ্দীপনাকে আরও বাড়িয়ে দেয় এবং অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় জীবনযাপন, ফিটনেসের গুরুত্ব এবং জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে নিজের পছন্দ ও আগ্রহকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করে।উদ্যোগ এবং ক্যানসারের চিকিৎসার বাইরেও রোগীর জীবনের দিকে নজর দেওয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে ডা. সৌরভ দত্ত, ডিরেক্টর, মণিপাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার, ব্রডওয়ে এবং মুকুন্দপুর ক্লাস্টার, কলকাতা, বলেন, “ক্যানসারের চিকিৎসা শুধু একটি চিকিৎসা পরিকল্পনার মধ্যেই শেষ হয় না। প্রত্যেক ক্যানসার যোদ্ধার এই যাত্রায় শারীরিক শক্তি, মানসিক দৃঢ়তা এবং একটি শক্তিশালী সহায়ক ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়। ক্যানসার ওয়ারিয়র স্পোর্টস সামিটের মতো উদ্যোগ রোগীদের জীবনের আনন্দের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হতে, নিজেদের অগ্রগতিকে উদযাপন করতে এবং শুধুমাত্র একজন ক্যানসার রোগী হিসেবে নিজেদের পরিচয়ের বাইরে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে। ‘জিন্দেগি জিন্দাবাদ’ সেই মানসিকতারই উদযাপন—আশাকে বেছে নেওয়া এবং জীবনকে উদযাপন করার।”ক্যানসারের চিকিৎসার সময় ফিটনেস এবং চলাফেরার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. নেহা চৌধুরী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড এইচওডি, ব্রেস্ট সার্জারি, বলেন, “অনেক ক্যানসার যোদ্ধার ক্ষেত্রেই এই যাত্রা শরীর, আত্মবিশ্বাস এবং প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন নিয়ে আসে। ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উপযোগী এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সক্রিয় থাকা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুভূতি তৈরি করতে সাহায্য করতে পারে। এই ধরনের অনুষ্ঠান আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে ফিটনেস মানে কোনও পারফরম্যান্স বা প্রতিযোগিতা নয়; বরং নিজেকে শক্তিশালী, সক্ষম এবং জীবনের সঙ্গে যুক্ত অনুভব করা।”ক্যানসারের চিকিৎসার সময় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তার ভূমিকা সম্পর্কে ডা. পূজা আগরওয়াল, কনসালট্যান্ট, ব্রেস্ট সার্জারি, বলেন, “ক্যানসারের চিকিৎসা শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন হতে পারে এবং অনেক সময় রোগীরা রোগের সঙ্গে ভয় ও নানা ভুল ধারণাও বহন করেন। আমাদের এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে যেখানে ক্যানসার নিয়ে কথা বলার সঙ্গে ভয় বা সামাজিক সংকোচকে যুক্ত করা হবে না। একজন ক্যানসার যোদ্ধাকে পরিবার, কাজ, সমাজ এবং যে সমস্ত কার্যকলাপ তাঁকে আনন্দ দেয়, তার সঙ্গে যুক্ত থাকতে উৎসাহিত করা উচিত। তাঁদের যাত্রা শুধু রোগকে ঘিরে নয়; বরং মর্যাদা, আত্মবিশ্বাস এবং জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”ক্যানসারকে ঘিরে সামাজিক সংকোচ দূর করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ডা. অরুণাভ রায়, সিনিয়র কনসালট্যান্ট অ্যান্ড হেড, গাইনিকোলজিক্যাল অনকোলজি, বলেন, “ক্যানসারকে ঘিরে এখনও সামাজিক সংকোচ রয়েছে, যা অনেক সময় চিকিৎসার শারীরিক চ্যালেঞ্জের মতোই রোগীদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। আমাদের ক্যানসার নিয়ে আরও খোলামেলা এবং সহানুভূতিশীলভাবে কথা বলার দিকে এগোতে হবে, যাতে রোগীরা স্বচ্ছন্দে চিকিৎসা নিতে পারেন, নিজেদের উদ্বেগের কথা বলতে পারেন এবং দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। ‘জিন্দেগি জিন্দাবাদ’-এর মতো উদযাপন ভয় এবং সীমাবদ্ধতার জায়গা থেকে ক্যানসারকে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং সম্ভাবনার দৃষ্টিতে দেখার মানসিকতা তৈরি করতে সাহায্য করে।”হোলিস্টিক সারভাইভারশিপ এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. রাজীব দে, ক্লিনিক্যাল লিড অ্যান্ড সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ক্লিনিক্যাল হেমাটোলজি, হেমাটো-অনকোলজি অ্যান্ড বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট, বলেন, “ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে বা চিকিৎসা থেকে সুস্থ হয়ে উঠছেন—এমন রোগীদের জীবনের প্রতিটি ছোট-বড় অগ্রগতিই উদযাপনের যোগ্য। সারভাইভারশিপ শুধু চিকিৎসা শেষ করার বিষয় নয়; বরং ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আত্মবিশ্বাস এবং নিজের পরিচয়কে ফিরে পাওয়ার বিষয়। শারীরিক কার্যকলাপ, অর্থবহ সামাজিক যোগাযোগ এবং মানসিক সহায়তা ক্যানসার যোদ্ধাদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেতে এবং চিকিৎসার পরেও জীবনকে নতুনভাবে গ্রহণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজ অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ ও মানসিক দৃঢ়তা আমাদের মনে করিয়ে দিল যে সুস্থ হয়ে ওঠার অর্থ শুধু চিকিৎসার ফল নয়, বরং একসঙ্গে শক্তি, যোগাযোগ এবং আনন্দ খুঁজে পাওয়াও।”সামিটে রোগীকেন্দ্রিক এবং মাল্টিডিসিপ্লিনারি ক্যানসার কেয়ারের গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। ক্যানসার ওয়ারিয়র স্পোর্টস সামিট ~ জিন্দেগি জিন্দাবাদ শেষ হয় ইতিবাচকতা ও উদযাপনের আবহে। অনুষ্ঠানের শেষে উঠে আসে এক শক্তিশালী বার্তা—ক্যানসার জীবনের যাত্রার একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু তা জীবনের আনন্দকে কেড়ে নিতে পারে না। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মণিপাল হাসপাতাল কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার কেয়ার সেন্টার উন্নত চিকিৎসার পাশাপাশি ক্যানসার যোদ্ধাদের আত্মবিশ্বাস, মানসিক দৃঢ়তা, শারীরিক সুস্থতা এবং রোগের বাইরেও একটি পরিপূর্ণ জীবনযাপনে উৎসাহিত করার প্রতিশ্রুতি আরও একবার তুলে ধরল।About Manipal HospitalsManipal Hospitals is one of India’s leading integrated healthcare providers serving ~ 8 million patients annually, focussed on providing accessible, high-quality healthcare services. Manipal’s integrated network today has a pan-India footprint of 50 hospitals with over 13,400 licensed beds across 14 States & Union Territories. The network is India’s largest multispecialty hospital network by bed capacity, supported by a talented pool of 11,000+ doctors and an employee strength of over 25,000.With a commitment to provide patient-centric care, Manipal Hospitals combines clinical expertise with advanced technology, research and innovation to serve a multitude of patients across the globe. Its continued focus on clinical quality and operational excellence is reflected in its NABH accreditation, with several of its hospitals also accredited by NABL and recognised for its excellence in nursing and emergency care.