“তোর্ষা একটি নদীর নাম” ছবির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সাফল্যের পর এবং দেশ ও বিদেশের একাধিক পুরস্কার প্রাপ্তির পর এবার দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে।
“তোর্ষা একটি নদীর নাম” ছবির জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে বিপুল সাফল্যের পর এবং দেশ ও বিদেশের একাধিক পুরস্কার প্রাপ্তির পর এবার দর্শকদের সামনে আসতে চলেছে পরিচালক কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহীর নতুন দুটি চলচ্চিত্র। মুক্তির অপেক্ষায় কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহীর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র “বিশু কুমোরের ঘোড়া।” বাঁকুড়ার লাল মাটির প্রেক্ষাপটে এই ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে। ভারতবর্ষে কুটির শিল্পের প্রতীক বা চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করা হয় মাটির ঘোড়াকে যার ইতিহাস হাজার বছর পুরোনো। সেই ইতিহাসেই ডুব দিতে চেয়েছেন পরিচালক কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী, বলতে চেয়েছেন এক মৃৎশিল্পীর জীবনের অজানা গল্প।

১৯৬৯ সালে রাষ্ট্রপতি পুরস্কার প্রাপ্ত মৃৎশিল্পী রাসবিহারী কুম্ভকারের জীবনের গল্প এই ছবির মূল অনুপ্রেরণা। “বিশু কুমোরের ঘোড়া” একজন শিল্পীর জীবনশৈলীর সঙ্গে তার শিল্প সত্তার মিশ্রণের করুণ কাহিনী। এক শিল্পীর উন্মাদনার গল্প জানতে হলে এই ছবিটি দেখতেই হবে। ছবিটি বর্তমানে বিভিন্ন দেশ-বিদেশের চলচ্চিত্র উৎসব ঘোরার অপেক্ষায় এবং পরবর্তীতে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায়। এই ছবিতে বিশুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সুপ্রভাত দাস। বিশুর স্ত্রী মালতীর চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেত্রী শতাক্ষী নন্দীকে। মালতী চরিত্রের দুটি দিক রয়েছে, একদিকে সে চায় তার স্বামীকে তার শৈল্পিক কাজে উদ্ভাসিত করতে এবং অন্যদিকে সংসার বাঁচানোর জন্য এবং দৈহিক ক্ষিদের কারণে তাকে মিশতে হয় ক্ষমতাবান এবং অর্থবান এক ব্যক্তি বিদেশ পাত্রের সঙ্গে। বিদেশ পাত্রের চরিত্রে দর্শকেরা দেখতে পাবেন এপার বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় ও শক্তিশালী অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুকে।

এই ছবিতে রয়েছে একাধিক বিভ্রম যার মাধ্যমে বিশু তার বাবার সঙ্গে শৈল্পিক চাওয়া পাওয়া এবং না পাওয়া নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে। বিশুর বাবার চরিত্রে দেখা যাবে চিরদিনই তুমি যে আমার, বহুরুপী, বেলাশেষে এবং বেলাশুরু খ্যাত অভিনেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য্যকে। বড় পর্দার পাশাপাশি মঞ্চেও অত্যন্ত শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় প্রবীণ অভিনেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য। মাটির ঘোড়ার প্রাণ পাওয়ার স্বপ্ন বিশুর পূরণ হয় কিনা সেটা জানতে গেলে দেখতে হবে বিশু কুমোরের ঘোড়া। এই ছবিতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দীপক হালদার, পারমিতা মুখার্জী, রণজিৎ সিংহ মহাপাত্র, তনময় ব্যানার্জি, শিশু শিল্পী ধনু, তরঙ্গ সরকার, দীপান্বিতা ঘোষ প্রমুখ। বিশু কুমোরের ঘোড়া প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে মৃত্তিকা চলচ্চিত্র প্রোডাকশন এবং এসকেএস ভেঞ্চার্স। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী, বিশ্বজিৎ পাল(সাহেব), সুপ্রিয় পন্ডা এবং স্বর্গীয় সৌরেন্দ্রনাথ সিংহ মহাপাত্র। কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী পরিচালিত তৃতীয় চলচ্চিত্রের নাম “অভিশপ্ত আমলাশোল – এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ” এবং এই ছবিটি বর্তমানে রয়েছে শুটিং ফ্লোরে। কলকাতা এবং আমলাশোলে জোর কদমে চলছে এই ছবির শুটিং। বিশু কুমোরের ঘোড়ার পরে আরো একবার এই ছবিতেও মুখ্য চরিত্রে দেখা যাবে অভিনেতা সুপ্রভাত দাসকে। মুখ্য চরিত্রের নাম বিরসা মুন্ডা। ১৯৯২, ২০০৩ এবং ২০২৫, এই তিন সময়ের কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। মাওবাদীদের সঙ্গে পুলিশের লড়াইয়ে সাধারণ আদিবাসী মানুষেরা হয়ে উঠেছিলেন স্যান্ডউইচের মাঝের পরত। এক শক্তিশালী দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে আরো একবার দেখা যাবে অভিনেতা বিশ্বনাথ বসুকে। এর পাশাপাশি ছবির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলিতে অভিনয় করেছেন শ্রীতমা দে, ঋতিকা চৌধুরী ও তরঙ্গ সরকার। ইন্ডাস্ট্রির আরো বেশ কিছু বড় নাম এই ছবিতে অভিনেতা হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। আজ আদিবাসীদের বিখ্যাত খাবার হিসেবে পরিচিত পিঁপড়ের ডিম এবং অনেক রেস্তোরাঁয় তার দাম আকাশছোঁয়া কিন্তু এক সময়ই পিঁপড়ের ডিম ছিল আমলাশোলে আদিবাসী মানুষের একমাত্র খাবারের রসদ। এই ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়বে কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহীর এই ছবিতে। সাঁওতাল, কোল, মুন্ডা এবং অন্যান্য আদিবাসী জনজাতির গল্প তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে। কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী বরাবরই শহরের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে দূরে গিয়ে গাছপালায় ভরা জঙ্গল ও মাটির কাহিনী শোনাতে পছন্দ করেন। এই ছবিতেও তার অন্যথা হয়নি। “অভিশপ্ত আমলাশোল- এই মৃত্যু উপত্যকাই আমার দেশ” ছবির প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছেন মৃত্তিকা চলচ্চিত্র প্রোডাকশন এবং ড্রামাটার্গি ফিল্মস। প্রযোজনার দায়িত্ব সামলেছেন কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহী এবং বিশ্বজিৎ পাল(সাহেব) দর্শকের মন জয় করতে এবং সাধারণ মানুষকে নতুন চিন্তায় ভাবিয়ে তুলতে কৃষ্ণেন্দু ষান্নিগ্রাহীর মাটির গন্ধে ভরা এই ছবি দুটির আগমন এখন সময়ের অপেক্ষা