নেতাজির অসম্মানের বিরুদ্ধে একতার গর্জন: ৯ই আগস্টের ঐতিহাসিক প্রতিবাদ মিছিল।
জয় হিন্দ! জয়তু সুভাষ!গত ৯ই আগস্ট, ২০২৬ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল কলকাতা। দেশনায়ক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সাম্প্রতিককালে কিছু রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও তাঁদের সহযোগীদের অশ্রাব্য, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কুরুচিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে রাজপথে নামল শতাধিক নেতাজি-প্রেমী মানুষ।শিয়ালদহ স্টেশন থেকে শুরু হয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে বেগবাগান ক্রসিং পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয় এই বিশাল ও শান্তিপূর্ণ ধিক্কার মিছিল। তীব্র তাপদাহ ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষ এতে শামিল হন। জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও রাজনৈতিক দলাদলির ঊর্ধ্বে উঠে নেতাজির নীতি ও আদর্শকে পাথেয় করে সর্বস্তরের জনগণ এক মঞ্চে সমবেত হয়েছিলেন।

*মূল উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারী সংগঠনসমূহ*এই আন্দোলনের প্রধান উদ্যোক্তা দিবাকর দেবনাথ-এর সুচিন্তিত রূপরেখা ও নেতৃত্বে নেতাজী সুভাষ ব্রিগেড – এক সংগ্রাম সহ প্রায় ১৫টি নেতাজি-প্রেমী সংগঠন একজোটে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।মিছিলে অংশ নেওয়া প্রধান সংগঠন ও উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ:• প্রধান অতিথি: ড. জয়ন্ত চৌধুরী (বিখ্যাত নেতাজি গবেষক)• নেতাজী সুভাষ ব্রিগেড – এক সংগ্রাম: ড. ইন্দ্রনীল ঠাকুর, সাংবাদিক কিরণজিৎ বাবু (যুগ্ম সম্পাদক: প্রসেনজিৎ ঘোষ ও অর্পণ কুণ্ডু)• BRMGSU :- সম্বিক নিয়োগী সম্পাদক, দেবাশীষ মৃধা, ব্রজকৃষ্ণ • আজাদ হিন্দ পিপলস মিশন: প্রতীক, চন্দ্রদীপ• বেঙ্গল ভলেন্টিয়ার্স: অনিমিত্রা চৌধুরী• আজাদ হিন্দ ফ্রন্ট: ড. দ্বৈপায়ন বাবুমিছিল শেষে মঞ্চ থেকে বক্তারা স্পষ্ট বার্তা দেন— “নেতাজি কোনো বিতর্ক নন, তিনি আমাদের স্বাধীনতার সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেরণা।”*আন্দোলনের মূল বার্তা ও আগামী সংকল্প*১. অরাজনৈতিক প্রতিবাদ: এই আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, বরং তাঁদের বিরুদ্ধে যাঁরা ভারতের অমূল্য ইতিহাস ও নেতাজির মতো মহান জাতীয় বীরকে অপমান করেছেন। ২. জাতীয় মহাপুরুষ নেতাজি: নেতাজি কোনো একক দলের সম্পত্তি নন; তিনি সমগ্র ভারতের গর্ব ও স্বাভিমান। তাঁকে অপমান করা মানে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও আত্মত্যাগকে অপমান করা। ৩. সংগ্রামের অঙ্গীকার: শিয়ালদহের এই মিছিল প্রতিবাদের শেষ নয়, বরং এক দীর্ঘ লড়াইয়ের সূচনা। উপযুক্ত প্রতিকার না পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত নেতাজি-প্রেমী সংগঠন মিলে প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথ বেছে নেবে।মিছিলটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য কলকাতা পুলিশ ও ট্রাফিক গার্ডকে আয়োজকদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হচ্ছে।নেতাজির অপমান, মানবো না মানবো না! তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।জয় হিন্দ! বন্দে মাতরম!