রাইস এডুকেশনের ১৬তম সমাবর্তনে সরকারি চাকরিতে সফলদের সংবর্ধনা…
চার হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকের উপস্থিতিতে কৃতীদের সম্মান, শীর্ষ সফলদের হাতে তুলে দেওয়া হল গাড়িকলকাতা, ২৮ জুন: সরকারি চাকরির বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রীয় পরিষেবায় সফল প্রার্থীদের সম্মান জানাতে রবিবার বিশ্ব বাংলা প্রদর্শনী কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হল রাইস এডুকেশনের ১৬তম সমাবর্তন উৎসব।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চার হাজারেরও বেশি বর্তমান ও প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা।বার্ষিক এই সমাবর্তনে সফল প্রার্থী, বর্তমান শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশিষ্ট অতিথিরা একত্রিত হয়ে শিক্ষাগত উৎকর্ষ, অধ্যবসায় এবং জনসেবার আদর্শকে নতুন করে তুলে ধরেন।১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত রাইস এডুকেশন গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ডব্লিউবিসিএস, এসএসসি, ব্যাঙ্কিং, রেল, বিমা, পিএসসি মিসলেনিয়াস এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতিতে শিক্ষার্থীদের পথ দেখিয়ে আসছে। বেলঘরিয়ার একটি ছোট্ট কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ব ভারতের অন্যতম শীর্ষ সরকারি চাকরির প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়।

পরে প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিথিরা। রাইস এডুকেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান অধ্যাপক (ড.) সমিত রায় উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘ পথচলা এবং ভবিষ্যতের জনসেবক গড়ে তোলার অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চল উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী ড. সুকান্ত মজুমদার। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইএএস আধিকারিক দেবাশিস সেন। মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে ড. মজুমদার ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক ও উপস্থিত অতিথিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানের সরাসরি সম্প্রচার শোনেন। পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ড. মজুমদার ও দেবাশিস সেন জনসেবার দায়িত্ব, সততা, শৃঙ্খলা এবং দেশগঠনে নিষ্ঠার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শপথ গ্রহণ পর্ব। বর্তমান শিক্ষার্থী এবং সফল প্রার্থীরা কর্মজীবনে নৈতিকতা, সততা ও পেশাগত মূল্যবোধ অটুট রাখার শপথ নেন।ডব্লিউবিসিএস, এসএসসি, ব্যাঙ্কিং, রেল, বিমা, পিএসসি মিসলেনিয়াস এবং স্কুল সার্ভিস কমিশন-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় সফল প্রার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অসামান্য ফলের জন্য কয়েকজন কৃতীকে বিশেষ সম্মানেও ভূষিত করা হয়।অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত কয়েকজন কৃতীর হাতে গাড়ির চাবি তুলে দেওয়া।জনপরিষেবা ও সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বকেও সম্মানিত করা হয়। পাশাপাশি সফল প্রাক্তনীরা বর্তমান শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তাঁদের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা এবং সরকারি চাকরির বাস্তব জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন।এই সমাবর্তন উৎসবের মাধ্যমে জনসেবামূলক পেশার জন্য দক্ষ, সৎ ও দায়িত্বশীল মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে রাইস এডুকেশনের অবদান আরও একবার সামনে উঠে আসে।অধ্যাপক (ড.) সমিত রায় বলেন, “সমাবর্তন উৎসব বহু বছরের অধ্যবসায়, ত্যাগ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আজ যাঁদের সম্মানিত করা হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকের সাফল্য আগামী প্রজন্মের চাকরিপ্রার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।”সমাপনী ভাষণে রাইস এডুকেশনের সিইও সোমনাথ আচার্য বলেন, “আজ যাঁদের সাফল্য উদ্যাপিত হচ্ছে, তাঁদের প্রত্যেকের সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে নিরলস পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং অদম্য মানসিক শক্তি। ভবিষ্যতেও প্রতিটি চাকরিপ্রার্থীর পাশে থেকে মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সঠিক দিশা এবং অবিচল সহায়তার মাধ্যমে তাঁদের জনসেবার উজ্জ্বল কর্মজীবন গড়ে তুলতে এবং দেশের অগ্রগতিতে অংশীদার হতে রাইস এডুকেশন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”