লিভারের গুরুতর অসুখ প্রতিরোধ করতে তাড়াতাড়ি হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং করাতে অনুরোধ করছে কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্স…
জুলাই ২৭, ২০২৬: ভাইরাল হেপাটাইটিস সারা বিশ্বে লিভারের অসুখ ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ এবং এই রোগের বোঝার এক তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ভারতের। বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের প্রাক্কালে কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্স সকলের জনসাধারণের জন্য এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং, টিকা নেওয়া এবং যথাসময়ে চিকিৎসকের হস্তক্ষেপকে অগ্রাধিকার দিতে বলেছে।ভাইরাল হেপাটাইটিসকে অনেক সময় ‘নীরব অসুখ’ বলা হয়ে থাকে। এই অসুখ বহুবছর ধরে কোনো চোখে পড়ার মত লক্ষণ ছাড়াই বেড়ে যেতে পারে এবং প্রায়শই ধরা পড়ে লিভারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাওয়ার পর। যতদিনে রোগী চিকিৎসার জন্য যান, ততদিনে সংক্রমণ হয়ত সিরোসিস, লিভার বিকল হয়ে যাওয়া বা লিভার ক্যান্সারের স্তরে পৌঁছে যায়। ফলে চিকিৎসা তাৎপর্যপূর্ণভাবে বেশি জটিল, দীর্ঘমেয়াদি এবং খরচসাপেক্ষ হয়ে পড়ে। অতএব গুরুতর জটিলতা ও উন্নত পরিণামের জন্য তাড়াতাড়ি স্ক্রিনিং এবং যথাসময়ে হস্তক্ষেপ জরুরি।সাম্প্রতিক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন অনুযায়ী এবং কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্সের ক্লেমসের পর্যবেক্ষণ অনুসারে:• ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি হেপাটাইটিস রোগীর বোঝা বহন করা দেশগুলোর অন্যতম। হিসাব বলছে, এখানে প্রায় ২.৯ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস বি এবং ০.৫৫ কোটি মানুষ হেপাটাইটিস সি নিয়ে বাঁচে, অর্থাৎ প্রায় ৩.৫ কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদি ভাইরাল হেপাটাইটিসের শিকার।• ভাইরাল হেপাটাইটিস ভারতে প্রত্যেক বছর প্রায় ১.২৩ লক্ষ প্রাণহানির কারণ। যেসব দেশে হেপাটাইটিস বি ও সি-র কারণে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ মারা যান ভারত তাদের মধ্যে পড়ে।• বেশিরভাগ হেপাটাইটিস সংক্রমণ ধরাই পড়ে না, ফলে চিকিৎসা শুরু হওয়ার আগেই রোগটা নীরবে লিভারের গুরুতর ক্ষতি করার দিকে এগিয়ে যায়।• হেপাটাইটিস স্ক্রিনিং ভারত সরকারের ন্যাশনাল ভাইরাল হেপাটাইটিস কন্ট্রোল প্রোগ্রাম (NVHCP)-এর অধীনে বিনামূল্যে করা যায়, কিন্তু অবনতি হওয়া লিভারের অসুখে খরচসাপেক্ষ চিকিৎসার দরকার পড়তে পারে। একটা বেসরকারি হাসপাতালে লিভার প্রতিস্থাপনের খরচ সাধারণত ₹১৮-৩৫ লক্ষ, তার উপর আজীবন ওষুধের খরচ।• কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্সের ক্লেমস পর্যবেক্ষণ থেকে দেখা যাচ্ছে যে লিভারের অসুখের ক্লেম গত তিন বছরে দ্বিগুণ হয়ে গেছে, পাশাপাশি চিকিৎসার খরচ একই পর্বে প্রায় ১০০% বেড়ে গেছে। এছাড়াও বিমাকারী অল্পবয়সী ব্যক্তিদের মধ্যে ৫%-১০% বার্ষিক ক্লেম বৃদ্ধি লক্ষ করেছে; টিয়ার ২ ও টিয়ার ৩ শহরগুলোতে ক্লেমে বার্ষিক ১০%-১৫% বৃদ্ধি হয়েছে এবং মহিলাদের মধ্যে গতবছরের তুলনায় প্রায় ১০% বৃদ্ধি হয়েছে।কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্স নিম্নলিখিত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার সুপারিশ করেছে:১ অন্তত একবার হেপাটাইটিস বি ও সি-র পরীক্ষা করান, বিশেষ করে যদি আপনার এই রোগ হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। সুপারিশ করা হেপাটাইটিস বি টিকার শিডিউল সম্পূর্ণ করুন, সদ্যোজাতদের জন্মের ২৪ ঘন্টার মধ্যে যে ডোজ দেওয়া হয় সেটা সমেত। লক্ষণ দেখা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না, কারণ দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস বছরের পর বছর নীরবে বাড়তে পারে। রোগণির্ণয় হলে চিকিৎসা সম্পূর্ণ করুন, কারণ হেপাটাইটিস সি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেরে যায়, আর হেপাটাইটিস বি মেডিকাল পরিচর্যা চালু রাখলে কার্যকরীভাবে সামলানো যায়। ডায়বেটিস, স্থূলত্ব, ফ্যাটি লিভার অথবা অন্যান্য মেটাবলিক সমস্যা যাঁদের আছে তাঁদেরও ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত লিভারের স্বাস্থ্যের মূল্যায়ন করানো উচিত২ ইঞ্জেকশন নেওয়া, রক্ত নেওয়া, দাঁতের চিকিৎসা, ট্যাটু এবং পিয়ার্সিং করানোর সময়ে নিরাপদ পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করুন এবং রেজার, ছুঁচ বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করা এড়ানোর চেষ্টা করুন যাতে হেপাটাইটিস বি ও সি সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।৩ হেপাটাইটিস এ এবং ই আটকাতে খাবার ও জলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন, বিশেষ করে বর্ষাকালে, যখন এইসব সংক্রমণ বেশি ঘটে।৪ সুষম আহার, নিয়মিত শারীরিক কসরত করে স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা বজায় রাখুন। অতিরিক্ত মদ্যপান এড়িয়ে যান, কারণ ওতে লিভারের ক্ষতি হওয়ার গতি বাড়ে।আপনার স্বাস্থ্য বিমা কভারেজ নিয়মিত পুনর্বিবেচনা করুন। উন্নততর লিভারের চিকিৎসা এবং প্রতিস্থাপনের খরচ বেশ কয়েক লক্ষ টাকা। সুতরাং পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য বিমা আপনাকে বড়সড় অসুস্থতার আর্থিক বোঝা সামলাতে সাহায্য করবে।কেয়ার হেলথ ইনশিওরেন্স প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা এবং গোড়াতেই ব্যবস্থা নেওয়ায় উৎসাহ দিতে বদ্ধপরিকর। ভারত ২০৩০ সালের মধ্যে ভাইরাল হেপাটাইটিস দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছে। এই অবস্থায় বৃহত্তর সচেতনতা, নিয়মিত স্ক্রিনিং এবং তাড়াতাড়ি চিকিৎসা লিভারের অসুখের বোঝা কমানোর পক্ষে জরুরি।